বিজ্ঞাপন

Thursday, June 17, 2021
World on Web


হামাস বনাম ইজরাইল যুদ্ধের ফলাফল কি ?

ইজরাইল এবং হামাস উভয় পক্ষের যুদ্ধে কে আসল বিজয়ী ? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে পাওয়া গেল আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ…

By admin , in আন্তর্জাতিক খবর , at May 28, 2021

বিজ্ঞাপন





ইজরাইল এবং হামাস উভয় পক্ষের যুদ্ধে কে আসল বিজয়ী ? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে পাওয়া গেল আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্ন-১ঃ হামাস কেন ইজরাইলে রকেট হামলা চালায় ?

প্রশ্ন-২ঃ ইজরাইল কেন মিশরের মধ্যস্ততায় যুদ্ধ বিরতিতে যায়?


প্রশ্ন-৩ঃ মোসাদের প্রধান কোহেন কেন বরখাস্ত হয় ?


প্রশ্ন-৪ঃ যুদ্ধের ফলাফল কি ?



১ঃ হামাস কেন ইজরাইলে রকেট হামলা চালায় ?

এ প্রশ্নের জবাব পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে শেখ জাররাহ অঞ্চলের সংকটে। এলাকাটি ফিলিস্তিন পাড়া হিসাবে খ্যাত। মসজিদুল আকসার নিকটবর্তী অঞ্চল। যেখানে ইজরাইলের জবর দখলে ভুমি হারা অনেক ফিলিস্তিনির বসবাস। পুর্ব ফিলিস্তিন।

২৮ টি পরিবার ১৯৪৮ সালে হাইফা এবং ইয়াফা হতে বাস্তুচ্যুত হয়। ১৯৫৬ সালে তারা শেখ জাররাহ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। শেখ জাররাহ ছিলেন গাজী সালাউদ্দিন আয়ুবীর চিকিৎসক। তার কবর সেই এলাকায়। তার নামেই শেখ জাররাহ অঞ্চল গড়ে উঠেছে। ইদানিং ইহুদি আদালত এই ২৮ পরিবারকে গৃহ ত্যাগের হুকুম জারি করেছে। বাড়িঘর ভেংগে ইহুদি বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নিলে সংঘর্ষ হয় ইহুদি পুলিশের সাথে। তাতে দুই ফিলিস্তিনি তরুণ এবং এক ইহুদি তরুণ মারা যায়। অনেক আহত হয়। দ্বিতীয় সমস্যা — রমজানে মসজিদুল আকসায় মুসল্লীদের উপর ইহুদি পুলিশের আক্রমন। এই দুই সমস্যা সমাধানে হামাস ইজরাইলকে দুই আল্টিমেটাম দেয়। ১) মসজিদুল আকসা অঞ্চল ত্যাগ করতে হবে। ২) শেখ জাররাহ অঞ্চলে ইহুদি বসতি স্থাপন বন্ধ করে চলে যেতে হবে। ইজরাইল দখলদারিত্ব ত্যাগ না করে মসজিদে মুসল্লীদের উপর হামলা চালায়। তাই হামাস রকেট নিক্ষেপ করে ইজরাইলের জবাব দেয়। তাদের এই অভিযানের নাম দেয় ” অপারেশন সোর্ড অব জেরুসালেম “। হামাসের জবাবের মুল বার্তা ছিল, জেরুসালেম মুসলমানের পবিত্র ভুমি, মসজিদুল আকসা ধারন নগরী, ফিলিস্তিনের রাজধানী। এই ভুমিতে ইহুদীদের অধিকার নেই। ফিলিস্তিন ভুখন্ডে ইজরাইল রাষ্ট্র মানা হবে না। তাদেরকে জেরুজালেম ত্যাগ করতে হবে। এইবারের হামাসের রকেট হামলার অভ্যন্তরীন একটি বার্তা ছিল ফাতাহ সরকার মাহমুদ আব্বাসের জন্যে। তিনি ২০০৫ সালের নির্বাচনে হামাস জিতার পর আর নির্বাচন দেননি। দীর্ঘ সময়ের পর এবার নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ২৯ এপ্রিল আব্বাস নির্বাচন স্থগিত করে দেয়। তার ভয় শুধু হামাস নয়। তার দল ফাতাহ নেতা মারোয়ান বারগুতি এখন আব্বাস বিরোধী। যিনি আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী, ইজরাইল বিরোধী। আব্বাস মুলত ইজরাইলের পাপেট। ফিলিস্তিনি স্বার্থ দেখছেন না। এমন মুহুর্তে হামাস রকেট হামলা চালিয়ে গোটা ফিলিস্তিনের পাশে দাড়ালো। পশ্চিম তীর, পুর্ব অঞ্চল বাসির সহনাভুতি হামাসের দিকে ঝুকে গেল। হামাস জেনে শুনে বুঝে ইজরাইলের নাভি তেল আবিবে রকেট হামলা চালিয়েছে। এর পরিনতি কি তা হামাস জান্ত। ইজিরাইল পালটা ক্ষেপনাস্র হামলা চালায়। অর্থ আর সামরিক সজ্জায় সজ্জিত ইজরাইল গাজায় অনেক ক্ষতি সাধন করেছে। দুই শতাধিক গাজাবাসি খুন করেছে। অনেক ভবন ধ্বংস করেছে। হামাসের রকেট হামলায় ১২ জন ইহুদি মারা যায়।

২ঃ ইজরাইল কেন মিশরের মধ্যস্ততায় যুদ্ধ বিরতিতে যায়?

তা বুঝার জন্যে একটু পিছনে যেতে হবে। পিছনের যুদ্ধের ফলাফল দেখতে হবে। দেখুন ১ জন মৃত ইহুদির অনুপাতে কতজন গাজাবাসি শহীদ হলেন। ২০০৮ সালে ১ঃ৮৯; ২০১২ সালে ১ঃ৮০; ২০১৪ সালে ১ঃ৩৪; আর এবার ২০২১ সালে ১ঃ২১ এ এসে দাড়াল। এইবার হামাসের রকেট হামলা ইজরাইলের অত্যাধুনিক ‘আইরন ডোম’ ফাঁকি দিয়ে তেল আবিবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। যা ইজরাইলি ভাবনার বাইরে ছিল। এসব হিসাব নিকাশ ইজরাইল বুঝে। তাদের যুদ্ধের ফলাফল অবনতির দিকে। হামাসের উর্ধ্বগতি তাদের জন্যে বিরাট আতংক। আর একটি কারন হল পাকিস্তান এবং তুরস্কের এয়ার ফোর্স ইরাক এবং জর্ডানের বিমান ঘাটি ব্যবহারের অনুরোধ জানায়। জো বাইডেন এমন সংবাদ শুনে ইজরাইলকে যুদ্ধ বিরতির নির্দেশ দেয়। ইজরাইল মিশরের মধ্যস্ততায় পিছু হটে।

৩ঃ মোসাদের প্রধান কোহেন কেন বরখাস্ত হয় ?

বিশ্বমিডিয়া এই প্রথম একচাটিয়া ইজরাইলের পক্ষে নিউজ করা হতে বিরত থাকে। একই সময় ইজরাইলের লুদ শহর বিদ্রোহ করে। এটা ইজরাইলের পুরানো গৃহদাহ। সেখানে তিন দিনের কার্ফু জারি করে। আমেরিকার মাটিতে বাইডেন নিজ দলের ভিতর হতে বাঁধার সম্মুখীন হলেন। কংগ্রেস এবং একাধিক সিনেট সদস্য মধ্যপ্রাচ্য নীতির কঠোর সমালোচনা করে। মোসাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্যে মোসাদ প্রধান ইয়োসি কোহেন( ২৫/৫/২১) বরখাস্ত হয়। মিঃ ডেভিড বার্নিয়া তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

৪ঃ যুদ্ধের ফলাফল কি ?

এখনও যুদ্ধের ফলাফল খুজলে আপনার একবার ভেবে দেখা উচিত উপরোক্ত অর্জনসমূহ হামাস, ফিলিস্তিনিদের জন্যে কম কিসে ? মুলত ইহুদিরা হল রাখালহীন মেষপাল। এক ভীতু জাতি। চরম হটকারিতা, প্রতারনা, সন্ত্রাসি কর্ম, আল্লাহর অকৃতজ্ঞ বান্দা। যারকারনে তাদের স্থায়ী বাসস্থান ছিল না, থাকবেও না। তাদের গ্রেটার ইজরাইল রাষ্ট্র প্লান কোন দিনই বাস্তবায়িত হবে না। গাজা হতে যেভাবে তাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে, সেভাবেই ফিলিস্তিন ভুমি হতে তাদের বিদায় করা হবে ইনশাআল্লাহ। আর এই হবে যুদ্ধের শেষ ফলাফল।

Comments


Leave a Reply


Your email address will not be published. Required fields are marked *